বুধবার ১৪ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেকিং নিউজ >>
ব্রেকিং নিউজ >>

শেয়ারবাজারে আইপিওর দাম নির্ধারণে নতুন নিয়ম, কৃত্রিম দর প্রস্তাব বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ | 28 বার পঠিত | প্রিন্ট

শেয়ারবাজারে আইপিওর দাম নির্ধারণে নতুন নিয়ম, কৃত্রিম দর প্রস্তাব বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্টেকহোল্ডারদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন পাবলিক ইস্যু রুলস চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশন আশা করছে, নতুন বিধিমালার মাধ্যমে আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং শেয়ারদর বাজারনির্ভর ও যৌক্তিক পর্যায়ে স্থিত হবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, নতুন রুলস কোনো একক সিদ্ধান্তের ফল নয়; বরং বাজার সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, আইপিও রুলসের খসড়া প্রকাশের পর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৭০টি মন্তব্যসহ মোট ২২০টি মতামত পাওয়া যায়। কমিশন প্রতিটি মন্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে এবং সেসব আলোচনার প্রতিফলন নতুন রুলসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। খসড়া ও চূড়ান্ত রুলসের পার্থক্যই প্রমাণ করছে যে স্টেকহোল্ডারদের মতামত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় আইপিও প্রক্রিয়ার বহু বিতর্কিত বিষয় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—মেরিট বিবেচনা, স্বরেজমিনে পরিদর্শন, স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারিশ, একাধিক স্টক এক্সচেঞ্জে আইপিও বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি। বিএসইসির এই পরিচালক জানান, এবার ইচ্ছামতো শেয়ারদর প্রস্তাবের সুযোগ থাকবে না। সক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত দর প্রস্তাব করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যা আইপিওর দায়িত্বশীলতার নিশ্চয়তা দেবে।

আবুল কালাম বলেন, ২০২০ সালের সংশোধিত পাবলিক ইস্যু রুলস প্রকৃত অর্থে বুক বিল্ডিং নয়, বরং কার্যত ফিক্সড প্রাইসের মতো ছিল। নতুন রুলসে সীমাবদ্ধতা দূর করে বাজারনির্ভর ও কার্যকর বুক বিল্ডিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিএসইসি গঠিত টাস্কফোর্স তিনটি ক্ষেত্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিল—মিউচুয়াল ফান্ড, আইপিও, এবং মার্জিন রুলস। এই তিন ক্ষেত্রেই সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। কর্পোরেট গভর্ন্যান্স ও অডিটরস প্যানেল সংক্রান্ত বিষয় পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।

নতুন বিধিমালায় কার্টেল গঠন, কৃত্রিম দর প্রস্তাব ও সক্ষমতার বাইরে দর দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব অনিয়ম রোধে ছয়টি শর্ত আরোপ করা হয়েছে এবং নিয়ম ভঙ্গ করলে শাস্তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা করা হয়, কার্টেল বলতে বোঝায় একাধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গোপন সমঝোতা, যার মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম প্রভাব সৃষ্টি করে দাম বৃদ্ধি বা হ্রাস করা হয়।

ফিক্সড প্রাইস নির্ভর আইপিওর বিকল্প হিসেবে নতুন বিধিমালায় ইন্ডিকেটিভ প্রাইস নির্ধারণ প্রক্রিয়া কঠোর ও স্বচ্ছ করা হয়েছে। ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারকে ভ্যালুয়েশন পদ্ধতির মাধ্যমে ইন্ডিকেটিভ প্রাইস যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করতে হবে। এছাড়া রোডশোর মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ যাচাই করে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ চাহিদার ভিত্তিতে ভ্যালিডেশন নিশ্চিত করতে হবে।

বিএসইসির মুখপাত্র বলেন, “আইপিও প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যাগুলো ছিল—কার্টেল গঠন, কৃত্রিম দর প্রস্তাব, প্রাইস ম্যানিপুলেশন—নতুন বিধিমালার মাধ্যমে সেগুলো প্রতিরোধ করা হবে। বাজারনির্ভর বুক বিল্ডিং কার্যকর করা হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আনা সম্ভব হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক হাসান মাহমুদ, অতিরিক্ত পরিচালক লুৎফুল কবির এবং যুগ্ম পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল আলম।

Facebook Comments Box

Posted ৭:৪২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

sharebazar24 |

এ বিভাগের আরও খবর

আর্কাইভ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০
১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭৩০৩১
মো. সিরাজুল ইসলাম সম্পাদক
বার্তা ও সম্পাদকীয় কার্যালয়

৬০/১, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০

হেল্প লাইনঃ 01742-768172

E-mail: sharebazar024@gmail.com